গাজীপুরে বন্ধ কিন্ডারগার্টেনে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য দুই কোটি টাকা অনুদান!

Slider টপ নিউজ শিক্ষা

গাজীপুর: চলতি বছরে গেলো স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা বলে গাজীপুরে শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে গাজীপুর জেলা পরিষদ। এই টাকার চেক এখনো নিচ্ছেন স্কুল মালিকেরা। তবে এই টাকায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে কতটুকু! তা জানা যায়নি। করোনার কারণে কোন স্কুল খুলে স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা বলা হয়নি। তবে সরকারী টাকায় কি ভাবে বন্ধ স্কুলগুলোতে স্বাধীনতা দিবস পালন হল, তা নিয়ে নানা কথা চলমান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা পরিষদ, শতাধিক কিন্ডাগার্টেন স্কুলকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়। এই টাকায় স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা। মহামারী করোনার কারণে সরকারীভাবে ঘটা করে স্বাধীনতা দিবস পালনের উপর বিধি নিষেধও ছিল। এ ছাড়া কিন্ডারগর্টেন স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অনেক স্কুল বিলুপ্তও হয়ে গেছে ভাড়া দিতে না পারায়। অনেকটা ছিন্ন ভিন্ন কিন্ডারগার্টেন সেক্টর। স্কুল আছে শিক্ষক নেই বা শিক্ষক আছে স্কুল নেই। এই অবস্থায় হাজার হাজার শিক্ষক অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। অভুক্ত শিক্ষকেরা একটু খাবারের জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এমন একটি অবস্থায় খবর হল, বন্ধ স্কুলে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য দুই কোটি টাকা বিতরণ কথা হয়েছে। এই টাকাপ্রাপ্ত স্কুলের মধ্যে ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলেও পালিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস।

গাজীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এমন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল মালিক ব্য্যংক থেকে ২০ হাজার টাকা তুলেছেন। স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য জেলা পরিষদের এই অনুদানের চেক তিনি ভাঙিয়েছেন বলে জানালেন। ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলে চলতি বছরে স্বাধীনতা দিবস পালনে জন্য কি ভাবে সরকারী অনুদান পেলেন! এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই শিক্ষক জানালেন, একজন মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী তাকে চেক তুলে দিয়েছেন, তবে অর্ধেক টাকা উনাকে দিতে হবে।

গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট শাখার উচ্চমান সহকারী মামুন জানান,জেলা পরিষদের ২০ জন সদস্যের নিজ নিজ এলাকার কিন্ডাগার্টেন গুলোকে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সরকারী অনুদান দেয়া হয়েছে। ২০ হাজার টাকা করে দেয়া অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের সংখ্যা শতাধিক বলে জানান তিনি। করোনায় বন্ধ স্কুল ও বিধিনিষেধ চলমান থাকলেও স্বাধীনতা দিবস স্কুলগুলো কিভাবে পালন করলো সরকারী টাকায়, এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া হয়। আমাদের সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দেন। এই টাকার অর্ধেক দালালী দিতে হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মচারী বলেন, মাঠ লেবেলে হয়েছে কি না জানিনা। তবে হয়েও থাকতে পারে। ২০১৮ সালে বন্ধ হওয়া স্কুলকে ২০ হাজার টাকা চেক দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তালিকা দেখে বলতে হবে।

এদিকে গোপন অনুসন্ধান বলছে, বন্ধ স্কুলগুলোতো স্বাধীনতা দিবস পালনের কথা বলে নেয়া দুই কোটি টাকার বেশী অনুদান ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে। মাধ্যমকে অর্ধেক দিয়ে স্কুল মালিকেরা টাকা নিয়েছেন। নিরাপত্তার ভয়ে তারা মুখ খুলছেন না। তবে বন্ধ থাকা স্কুলের জন্য যা পান তাতেই তারা খুশি। তবে গাজীপুর মহানগরে একজন ও বিভিন্ন এলাকায় একজন করে বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রী কিন্ডারগার্টেনের টাকাগুলো উঠানোর মাধ্যমে নিজেরা অর্ধেক পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *