আজ বসন্তের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবসে ৫৫টি পৌরসভায় ভোট , সহিংসতার আশঙ্কা

Slider সারাদেশ


বসন্তের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবসে আজ রবিবার যে ৫৫টি পৌরসভায় ভোট হতে যাচ্ছে সেখানে সহিংসতা ও অনিয়মের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগের কয়েকটি ধাপের মতো চতুর্থ ধাপে ৩৪ জেলার এসব পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বেও কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রতিপক্ষকে এলাকা ছাড়ার হুমকি, কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের ‘কায়দা‘ বাতলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। এ জন্য যা যা করার তা-ই করতে হবে। ৫৫টি পৌরসভার ৭৯৩টি কেন্দ্রে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের জন্য ১০ হাজার ৩০৯ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরের এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমও রয়েছে।

গতকাল শনিবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ডিআইজি, ডিসি, এসপি ও রিটার্নিং অফিসারদের এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনে যেন অন্য কোনো কিছু না ঘটে।

আগের কয়েক ধাপের নির্বাচনে যেসব অনিয়ম ছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি বন্ধে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে সচিব বলেন, আগের বা পরের যে নির্বাচনের কথাই বলেন না কেন, নির্বাচন কমিশনের একটাই অবস্থান। সেটা হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। এ নির্বাচনে ‘ডোর টু ডোর পার্টিসিপেশন’ থাকে। তৃতীয় ধাপে দু-তিনটি জায়গায় সমস্যা হয়েছে। কমিশন সেগুলোর বিষয়ে ওয়াকিফহাল। সেগুলোর প্রতিবেদন এসেছে। সেগুলো কমিশনের কাছে পেশ করা হবে। গোপন কক্ষে ভোটার ছাড়া তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেন নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, সে জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ যেসব পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার মধ্যে ২৯টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং ২৬টিতে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। এ ধাপে ফেনীর পরশুরামে মেয়র ও কাউন্সিলর পদগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার কারণে সেখানে সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আর মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে দলের একজন শীর্ষ নেতার কাছে তুলে আনার অভিযোগ ওঠে। আর হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে নাটোর পৌরসভার নির্বাচন। পরে এ ধাপে যুক্ত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি পৌরসভা।

যেখানে ইভিএমে ভোট : ঠাকুরগাঁও, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, লালমনিরহাট, নরসিংদীর মাধবদী, রাজবাড়ী, বরিশালের মুলাদী, শেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, বান্দরবান, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, কুমিল্লার হোমনা ও দাউদকান্দি, চট্টগ্রামের পটিয়া, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, চাঁদপুরের কচুয়া, নেত্রকোনা, যশোরের চৌগাছা, রাঙামাটি, মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম, ময়মনসিংহের ফুলপুর, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, নোয়াখালীর চাটখিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি।

ব্যালট পেপারে ভোট : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল, রাজশাহীর নওহাটা, তানোর ও তাহেরপুর, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, নরসিংদী, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, বরিশালের বানারীপাড়া, শেরপুরের শ্রীবরদী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও করিমগঞ্জ, টাঙ্গাইলের কালিহাতী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, যশোরের বাঘারপাড়া, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, জামালপুরের মেলান্দহ, জয়পুরহাটের কালাই, ফরিদপুরের নগরকান্দা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, নেয়াখালীর সোনাইমুড়ি এবং সিলেটের কানাইঘাট।

সহিংসতা : ২৭ জানুয়ারি থেকে এ ধাপের পৌরসভাগুলোতে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, লালমনিরহাট সদরসহ বিভিন্ন পৌরসভায় সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোটের আগের দিন রাজশাহীর চারঘাটে পৌর নির্বাচনে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়াধাওয়ি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আল মামুন তুষারসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দুই বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর ভাতিজা। শুক্রবার রাতে পুলিশ তাঁদের আটক করে। গতকাল তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিন শামসুর অভিযোগ, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পুলিশ তাঁর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। আতঙ্কে তাঁর কর্মীরা এলাকাছাড়া। তবে চুনারুঘাট থানার ওসি মো. আলী আশরাফের ভাষ্য, সুর্নিদিষ্ট মামলায় ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পৌর নির্বাচনে প্রতিপক্ষের মাইক ভাঙচুর, প্রচারে বাধা, সংসদ সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘন, পোস্টার লাগাতে বাধা—এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচনে সব কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ পৌরসভায় গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চারজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *