আজ আমাকেই সরিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে!

Slider টপ নিউজ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় ৩৪ বছর একক কর্তৃত্ব ছিল হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফীর। এই তিনযুগ ধরে তার কথার বাইরে যায়নি মাদ্রাসার কোনো কার্যক্রম। শুধু তাই নয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অসম্ভব সম্মানের পাত্র ছিলেন তিনি। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর কাছে বড় হুজুর নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু কি এমন হলো মৃত্যুর দু’দিন আগে তাকে পদত্যাগ করতে হলো। শিক্ষার্থীরাই বা কেন এমন একজন সম্মানের পাত্রের পদত্যাগ চাইলেন, আন্দোলন করলেন? কেন তিনি পদত্যাগ করে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। হঠাৎ মাত্র দু’দিনের ছাত্র বিক্ষোভে মাদ্রাসা ছাড়তে হলো আল্লামা শফীর। ছাত্র বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ১৭ই সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থতার কারণে হাটহাজারী মাদ্রাসা মহাপরিচালক পদ থেকে নিজেই অব্যাহতি নেন।

তবে তাকে আমৃত্যু সদরুল মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আহমদ শফীর স্বজনরা বলছেন, সমপ্রতি যখন তাকে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য কী না করেছি! আজ আমাকেই সরিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বয়সের কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগ হয়ে যাওয়ায় তারা শফীকে বাদ দেয়ার দাবি তুলেছিলেন। তবে তাকে মাদ্রাসা থেকে একদম বাদ দেয়ার পক্ষে ছিলেন না। মাদ্রাসার প্রধান মুরব্বি হিসেবে আহমদ শফীকেই রাখার পক্ষে ছিলেন তারা। মূলত তার ছেলে আনাস মাদানীর বিরুদ্ধেই ছিল ছাত্রদের প্রধান ক্ষোভ।

জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে দূরত্ব: শেষ সময়ে হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে দূরত্ব ছিল আহমদ শফীর। অনেকের মতে, শফী ও জুনাইদ বাবুনগরীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। সেই শাপলা চত্বর থেকে শুরু এই বিরোধের সূত্রপাত। এতে মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে আলেম-উলামারা। সেই থেকে আল্লামা শফী ও জুনাইদ বাবুনগরীর বিরোধ বাড়তে থাকে। বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের বিবৃতি প্রায়ই গণমাধ্যমে আসতো। এর মধ্যেও জুনাইদ বাবুনগরী সতর্ক অবস্থানে ছিলেন সব সময়। যদি বিবৃতির কোনো অংশে কষ্ট পান মুরব্বি শফী! তাই তিনি বিরোধকে বিরোধও বলতেন না, বলতেন নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ। অন্যদিকে শফীও একই পন্থা অবলম্বন করতেন। কওমি অঙ্গনের ক্ষতি হয় এমন কোনো বক্তব্য তিনিও দিতেন না। হঠাৎ বেফাঁস কিছু যদি বলে ফেলে, এই চিন্তা থেকে গণমাধ্যমেও তেমন কোনো কথা বলতেন না দু’জনই। গণমাধ্যমকর্মী থেকে দূরে রাখতে নিজেরা কোনো মুঠোফোনও ব্যবহার করতেন না। গণমাধ্যমের ফোন যেত তাদের প্রেস সচিবের কাছে। জানা গেছে, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জুনায়েদ বাবুনগরীকে ২০১৭ সালে সহকারী পরিচালক করা হয়েছিল। তিনিই উত্তরসূরী হতে পারেন- এমন একটা আলোচনা ছিল। কারণ তাকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবও করা হয়েছিল। শিক্ষকরা বলছে, আনাস মাদানীর পরামর্শে শফী মাদ্রাসার সাবেক একজন শিক্ষক শেখ আহমদকে আবার ফিরিয়ে আনেন। তখন এটা স্পষ্ট হয় যে বাবুনগরীকে ঠেকানোর জন্য তাকে আনা হয়েছে। এ নিয়ে বাবুনগরী এবং তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল।

উল্লেখ, জীবদ্দশায় হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশেরও (বেফাক) সভাপতি পদে ছিলেন। এছাড়া কওমি মাদ্রাসাগুলোর সমন্বিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়ার তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে সরকার কওমি মাদ্রাসা সর্বোচ্চ স্তরে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *