যমুনায় নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১৭ জন

Slider জাতীয়


চৌহালী (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫৭ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৭ জন।

মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনোয়েতপুরের স্থল ইউনিয়নে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত্য ও প্রবল ঢেউয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে যাত্রীবাহী নৌকাটি হঠাৎ ডুবে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন বছর বয়সের এক শিশু, ওয়েলডিং মিস্ত্রি ও দিনমজুর বৃদ্ধ মারা গেলে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হন আরো প্রায় ৩০ জন যাত্রী।

মৃতদের মধ্যে পাষান আলী (৬৫) নামে বেলকুচি উপজেলার গয়নাকান্দি গ্রামের অধিবাসি ধানকাটার শ্রমিক ও শেখ কামাল (৪০) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার সুবর্ণতলী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় জানা গেছে। শিশুটি অজ্ঞাত পরিচয়ের। তার মা-বাবাও নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে, দিন শেষে আরো ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১৭ জন।

স্থল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুন নুর ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে এনায়েতপুর থানার অদুরর ঘাট থেকে জেলার চৌহালী উপজেলা সদরের দিকে যাত্রী পরিবহনকারী শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি ছেড়ে যায়। নৌকাটিতে ধান কাটার শ্রমিক শ্রেণির লোকজনই বেশী ছিলেন। ধানকাটার শ্রমিকরা টাঙ্গাইলের করটিয়ায় যাবার কথা। যাবার পথে দুপুর পৌনে ২ টার দিকে যমুনার উল্লেখিত স্থলচর নামক স্থানে নৌকাটি প্রবল ঘূর্ণাবর্ত্য ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে। নৌকাটি ডুবে দু’জন মারা যান। নৌকার মাঝি ইব্রাহীম হোসেন সহ প্রায় ৩৫ জন যাত্রী সাঁতরে উঠতে সক্ষম হলেও নারী ও পুরুষসহ কমপক্ষে আরো প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ ছিলেন।

এদিকে, এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ এ প্রতিবেদককে জানান, এনায়েতপুর থেকে ৮০/৯০জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি চৌহালীর দিকে যাওয়ার পথে স্থলচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক শিশু, ওয়েলডিং মিস্ত্রি ও এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত নৌকার বেশ কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থলচর বাজারে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের বেশিরভাগ ধান কাটার শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিখোজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ কাজ করছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহম্মেদ জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন মারা গেছে এবং বেশ কজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত: করোনায় চৌহালী উপজেলা লকডাউন ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি দালাল চক্র পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এনায়েতপুর থানার অদুর বেরিবাঁধ ঘাট থেকে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় অবৈধভাবে যাত্রী চৌহালী ও টাঙ্গাইল পারাপার করছে। নৌকায় যমুনা পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাড়সহ বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানা এবং টহল নৌ-পুলিশ এসব বিষয় অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে শুরু থেকেই নিশ্চুপ থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *