খালেদা জিয়াকে শান্তির পথে আসার আহবান প্রধানমন্ত্রী

Slider জাতীয়

 

05-01-15-pm-1_109853_0

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নাশকতা, মানুষ হত্যা, বোমা-গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসংযোগ, জানমালের ক্ষতি করা বন্ধ করুন। আপনার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ আপনি ও আপনার দল সংসদে নেই।শান্তির পথে আসুন
ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফোকাস বাংলা

তিনি বলেন, নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কী কী করতে চান তা মানুষকে জানান। নিজের দলকে গড়ে তুলুন। তাহলেই হয়ত ভবিষ্যতে সম্ভাবনা থাকবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন একযোগে সম্প্রচার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা সংলাপে বসার অনেক চেষ্টা করেছি। সংবিধানের আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরণের ছাড় দিতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট চেয়েছিল দেশে একটা অরাজক এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পেছনের দরজা দিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্রের পাতানো ফাঁদে পা দেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, গত বছরের এই দিনে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছিলেন।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন হারানো পরিবার ও একাত্তরের নির্যাতিত মা-বোনদের স্মরণ করেন।

২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা শত শত গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ভাংচুর করেছে হাজার হাজার গাড়ি। মহাসড়কসহ গ্রামের রাস্তার দুপাশের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছে। পুলিশ-বিজিবি-আনসার-সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। তাদের সহিংস হামলা, পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলায়  নিহত হয়েছে শত শত নিরীহ মানুষ।

তিনি বলেন, সরকারি অফিস, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাতের দোকান এমনকি নিরীহ পশুও তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি। রেহাই পায়নি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর সামনে হাজার হাজার পবিত্র কোরান শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলে এবং ফিসপ্লেট খুলে শতশত বগি এবং রেলইঞ্জিন ধ্বংস করেছে। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি স্কুলে আগুন দিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ২৬ জনকে হত্যা করেছে। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সর্মথকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে, আগুন দিয়েছে।

এতো কিছুর পরও গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *