ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রেই ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত : ট্রুডো

Slider জাতীয় সারাবিশ্ব


কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, সব প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই হামলা ‘অনিচ্ছাকৃত’ হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এর মাত্র চার দিন পর গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের রাজধানী তেহরানের পাশে ইউক্রেনের ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, আমাদের মিত্র, নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া প্রমাণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের একটি সারফেস টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ইউক্রেনের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা উৎসের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি ‘অনিচ্ছাকৃত’ হয়ে থাকতে পারেও বলে মনে করছেন ট্রুডো।

ইরানের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও।

এর আগে ইরানের রাজধানী থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন বলে জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

দুর্ঘটনার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে সদুত্তর পাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বুধবার বলেন, তেহরানের কাছে ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন এবং এই দুর্ঘটনার বিষয়ে ইরান নেতৃত্বাধীন তদন্তকাজে অংশ নেয়ার জন্য কানাডা সরকার তেহরানকে চাপ দিচ্ছে।

তবে ২০১২ সালে ইরানে অবস্থিত কানাডা দূতাবাস বন্ধ করে দেয়া এবং তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার ফলে তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া কঠিন হবে বলেও জানান ট্রুডো।

ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণেই সাড়ে তিন বছরের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেয়া বিবৃতির সাথে প্রাথমিকভাবে একমত পোষণ করলেও, তদন্ত শেষ না হওয়ায় নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইউএনবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *