বিএনপির ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’

Slider নারী ও শিশু


ঢাকা: ক্ষমতাসীন অথবা প্রভাবশালী মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আড়াল করতে চাইলেও তা হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা নিপুণ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬৬ সদস্যের গঠিত কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ী নানা শ্রেণি–পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবেই সারা দেশে কমিটি করে ফোরামের কার্যক্রম করা হবে বলে জানান নিপুণ রায় চৌধুরী। এই ফোরামের ৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য হলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, লোমহর্ষক নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও অনেক ঘটনা আড়ালে চলে যায়। এখন থেকে যাতে এসব ঘটনা আড়াল হতে না পারে, সেই কাজ করবে জাতীয় নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তাও দেবে এই ফোরাম। এ কাজে তিনি মিডিয়ারও সহায়তা চান। তিনি বলেন, ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড মিডিয়ায় আসার কারণেই জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বাধ্য হয়েছে।

ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান বলেন, ‘খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র–সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র–সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে। অভিভাবকেরা মেয়ে ও শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহির অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ, অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই কারণে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরেও তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছে না।’

সেলিমা রহমান বলেন, প্রিয় বাংলাদেশ আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান, কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। ৯ মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা—ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না বাক্‌প্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। রাস্তাঘাট, বাস বা ট্রেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, এমনকি পুলিশ স্টেশন—কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম কায়দায় শিশুহত্যা, পাশবিক নির্যাতনের পর নারীকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেওয়া—এইভাবে নানা অভিনব কায়দায় ধর্ষক–লম্পটের হিংস্র থাবা সর্বত্র বিরাজমান।

সেলিমা রহমান আরও বলেন, এভাবেই সুবর্ণচরের পারুল, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, খুলনায় পুলিশ কাস্টডিতে রাতভর নারীর ওপর গণধর্ষণ চালানোর পর মিথ্যা ও সাজানো মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেওয়া, সিরাজগঞ্জের মেয়ে কলেজছাত্রী রূপাকে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা, কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিশাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স তানিয়াকে বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। শুধু গত ছয় মাসেই ৪৯৬টি কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, এদের মধ্যে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৩ জনকে।

আরও সংবাদ
বিষয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *