শরিয়তপুর সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রিয়া সরকার

Slider ফুলজান বিবির বাংলা


মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচনী এলাকা শরিয়তপুর বাংলাদেশ

আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী (এমপি) প্রার্থী প্রিয় সরকার। তিনি বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনকের সুযোগ্য কণ্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আগামী দিনে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল। দলীয় সভানেত্রী জনন্ত্রেী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেত্রীত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে আরো বেশি এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী (এমপি) প্রার্থী প্রিয়া সরকার।
আজ শুক্রবার আমাদের উত্তরা প্রতিনিধি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন এর সাথে উত্তরায় এক সৌজন্য সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

পারিবারিক জীবনের কথা উল্লেখ করে প্রিয়া সরকার বলেন- শরিয়তপুর জেলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সরকার ও মল্লিককান্দি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহন করি। আমার মাতার নাম লুৎফর নেছা সরকার। পিতা মৃত নুরুল ইসলাম সরকার। বর্তমানে আমি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় বসবাস করছি।

তিনি আরো বলেন- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ’’নির্বাচনী এলাকা শরিয়তপুর’’ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেব্ েগত ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ একটি আবেদন ফরম ক্রয় করেছি। যার ফরম (ক্রমিক) নম্বর ১০৪২ ।কত দিন ধরে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সাথে জড়িত আছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সরকার বলেন, বিগত ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে ২০১২ সাল দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর উত্তরা থানা কৃষকলীগের সহ সম্পাদিকা পদে নিষ্টা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এছাড়া আমি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা সম্পাদক হিসেবে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক পর্যায়ে বর্তমানে পদমর্যাদায় আছি।

দলীয় কর্মকান্ড সহ আর কোন কোন সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এমপি প্রার্থী প্রিয়া সরকার বলেন, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবি মুক্তিযোদ্বা সমন্বয় পরিষদ,কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সদস্য সচিব, আন্তর্জাতিক যুদ্বাপরাধ গনবিচার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি সহ সদস্য সচিব, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন বলে তিনি জানান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্বে পরিবারের ভুমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ব চলাকালে বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্বাদের থাকা খাওয়া সহ তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমার ভুমিকা ছিল অগ্রনী।

১৯৭৫ এর পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রসঙ্গে প্রিয়া সরকার বলেন-১৯৭৫ এর পরিবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে আমি ও আমার রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদী ভুমিকা পালন করি। তখন দলীয় নেতাকর্মীদেরকে একত্রিত করতে এবং দলকে আরো গতিশীল রাখতে সকল ধরনের কার্যক্রম আমি অংশ গ্রহন করি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি’ পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন- সে সময়ে ইয়াজ উদ্দিন, ফকরুদ্দিন এর আমলে স্বেচছাচারী তত্বাবধায়ক সরকার এর অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্বে প্রতিবাদ সহ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে আমি সতেষ্ট ছিলাম।

রাজনীতি করার ক্ষেত্রে নির্যাতন ও জেলজুলুমের কথা উল্লেখ করে শরিয়তপুর সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি প্রার্থী প্রিয়া সরকার বলেন- আমার পরিবার হলো রাজনৈতিক দলের পরিবার। বিএনপি- জামাত জোট সরকারের শাসনামলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে আমার কঠোর ভুমিকা ছিল। রাজনীতি করতে গিয়ে সভা-সমাবেশ করার সময় একাধিকবার পুলিশী নির্যাতন, হামলা-মামলার সহ নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছি।
সামাজিক কর্মকান্ড ও গঠনমূলক অবদান গুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন- দেশে সম্প্রতি সময়ে বন্যা কবলিত সহ যে কোন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, ঈদের সময় গরিব, দুঃখি ও অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি, চাল, ডাল, পণ্যসামগ্রী সহ শীতার্থ মানুষের মধ্যে কম্বল এবং শীত বস্ত্র বিতরণ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক সাহার্য্য সহযোগিতা দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছি।
শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক জীবন প্রসঙ্গে প্রিয়া সরকার বলেন- আমার পরিবার হলো রাজনৈতিক পরিবার। ছোটকাল থেকে আমার দাদা ও বাবা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আমিও তাদের কর্মকান্ডের সাথে একত্রিত হয়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মনেপ্রাণে ভালবেসে দলের জন্য সততা, নিষ্টার সাথে কাজ করছি।

তিনি বলেন- শরীয়তপুর আসন ছাড়া -’’ঢাকা মহানগরের যে কোন আসন’’ দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পছন্দ অনুযায়ী আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। দল থেকে যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিব।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সরকার বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক দেশও জাতির শত্রু। বর্তমান সরকার কঠোর হস্তে এগুলো দমন করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচেছন। আগামী দিনে আমি দেশবাসির উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। সবাইকে পাশে রাখতে চাই। সকলে মিলে মিলে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। আমি আপনাদের পাশে আছি, ছিলাম এবং ভবিষ্যতে ও থাকবো।
তিনি আরো বলেন- বাংলাদেশের মানুষের প্রানপ্রিয় নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা দলের সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করছি। দলের মধ্যে কোন ধরনের বিরোধ নেই। আমরা সকলের নৌকার পক্ষে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে দেশ পরিচালনা করছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে সারা বাংলাদেশে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে অতীতে আর কোন সরকারের আমলে সেটি হয়নি। বর্তমান সরকার হলো উন্নযনের সরকার। জাতির জনকের কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পদ্মাসেতু, ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় টাকা দিয়ে সরকার পদ্মা সেতু নির্মান করছেন। বিদেশী অর্থায়নে নয়। এটা সত্যিকারে গোটা বাঙ্গালী জাতির গর্ব। এছাড়া ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেল তৈরী করছেন সরকার। অতীতে আর কোন সরকার তা করতে পারেনি। সেজন্য আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচিছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *