শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

Slider রাজনীতি

317661_156

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোন প্রকার নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁর সরকার এ ধরনের অপরাধ কোনভাবেই বরদাশত করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাত্রদের বলবো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের ভাংচুর করা চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করবে এটা আমি বরদাশত করবো না। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেগুলো চালাতে সকল খরচ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি কেউ ভাংচুর করে, সেখানে আমার কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি নির্দেশ রয়েছে- সে দলের হোক, আর যেই হোক কাউকে ছাড়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তৃতা করেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবন ভাংচুরের সমালোচনা করে রাজনীতির নামে শিক্ষকদের দলাদলী পরিহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহবান জানান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবির ভিসির বাংলোতে হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করা হলো- আমরাওতো আন্দোলন করেছি, সেই ’৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলে চলে এসেছি। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়েছি আন্দোলনে ছিলাম। ভিসির বাড়ি ভিতরে ঢুকে তার রুমে লুটপাট করা, রুম ভাঙ্গা, তাঁকে ধাক্কা দেওয়া এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোন ইতিহাসে ঘটে নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্ত চলছে, ইতোমধ্যে অনেকে ধরা পড়েছে এবং আরো ধরা পড়বে। এরসঙ্গে যারাই জড়িত আর ঐ লুটপাট যারাই করেছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, আর কথায় কথায় দাবি করলেতো হবে না। একটা দেশের কল্যাণ কিভাবে করতে হয়, উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়, কিভাবে শিক্ষার মান উন্নত করতে হয়, শিক্ষার পরিবেশ কিভাবে রক্ষা করতে হয়, কিভাবে শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হয়, আমরা তা ভালই জানি। আর জানি বলেই আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাবো আজকে ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের, যে অন্তত শিক্ষার পরিবেশটা তারা বজায় রাখতে পেরেছে। তিনি বলেন, এই নয় বছরে দু’একটা ঘটনা ছাড়া এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই এবং ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, শিক্ষকদের অপমান করা- এ ধরনের কোন ঘটনা আমি আর চাই না এখানে ঘটুক।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকদেকেও আমি বলবো- শিক্ষকরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাগবে আর তারা দ্বন্দ্ব করবে আর তার ফল ছাত্ররা ভোগ করবে, সেটাও আমি চাই না। শিক্ষকরা যদি শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় তাহলে ছাত্ররা শিখবেটা কি?

ডিজিটাল প্রযুক্তি ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এ থেকে শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করে তার জন্য। এটাকে অপব্যবহার করার জন্য নয়। সেই কারণে ছাত্রলীগের ছেলে-মেয়ে সকলের ওপরে যেমন আমার নির্দেশ, সেই সাথে সাথে সকল ছাত্র সমাজ-জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে কেউ যেন সম্পৃক্ত না হয়।

তিনি বলেন, যদি কেউ হাতেনাতে ধরা পড়ে তাহলে তাকে যেমন বহিষ্কার করা হবে, সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *