গাসিক নির্বাচন ভাবনা-১৮: জাহাঙ্গীরের মাসিক সহযোগিতায় বিশদলীয় জোটের যত নেতা

Slider গ্রাম বাংলা বাংলার মুখোমুখি সামাজিক যোগাযোগ সঙ্গী

30582307_363685747452408_6289696540877389824_n

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গাজীপুর: আজ গাসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা আজ তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। আজকের পর থেকে আর কেউ নতুন প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে আওয়ামীলগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ সময় ধরে মহানগরে জনসেবা করে আসছেন।একজন দানবীর হিসেবে তিনি পরিচিত। আদর ভালবাসা দিয়ে তিনি নিজের জনপ্রিয়তার বলয় তৈরী করতে চান। তাই গত মেয়র নির্বােচনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ সহ প্রায় সকল শ্রেনীর মানুষ জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগিতা পায় সহজেই। এই সহেযোগিতা থেকে বাদ পড়েনি আওয়ামীলীগের বিরোধী বিশদলীয় জোটের কতিপয় নেতা-কর্মী।

গোপন অনুসন্ধান বলছে, বিশদলীয় জোটের প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়মিত জাহাঙ্গীর আলমের নিকট থেকে সহযোগিতা নেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলম কিছুদিন নীরব থাকেন। তারপর গাজীপুর-১(কালিয়াকৈর) আসনে এমপি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ওই আসন থেকে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী নির্বাচন করায় তিনি মনোনয়ন চান নি। এরপর আবার গাজীপুর মহানগরে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় জাহাঙ্গীর আলম মহানগরের সর্বত্র সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তিনি গাজীপুর মহানগরে বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ ও অনুষ্ঠান শুরু করেন। মহানগরের বড় পদ থাকায় তিনি সহজেই মহানগরের জনগনের কাছে পৌঁছে যান। সাহায্য সহযোগিতা করে তিনি সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নেন। এই সাংগঠনিক কাজের মাঝেই তিনি গাজীপুর মহানগরে পুনরায় মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি আজ আওয়ামীলগের দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।

সূত্র বলছে, জাহাঙ্গীর আলম মহানগরের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের হ্রদয় জয় করার জন্য সকল ধরণের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দল মত নির্বিশেষে জাহাঙ্গীর আলম সকল মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।

গোপন সূত্র বলছে, বিভিন্ন সূযোগ সুবিধা নেয়ার জন্য শুধু আওয়ামীলীগই নয় অন্যান্য সকল দলের অনেক নেতারা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি সহ বিরোধী জোটের প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে নিয়মতি ভাবে মাসিক বিভিন্ন হারে অর্থনৈতিক সুবিধা নেন। এতে করে জাহাঙ্গীর আলম সকল দলের সমর্থন নেয়ার কাজটাও চুকিয়ে নেয়।

পর্যবেক্ষন বলছে, ২০১৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিক প্রথম শ্রেনীর বিরোধী দলের নেতার ঘনিষ্ট ছবিও আছে। তারা এক সাথে নানা অনুষ্ঠানে এমনকি পারিবারিক কাজেও অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া একাধিক নেতাকে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে পরোক্ষভাবে প্রচারণায়ও কাজ করতে দেখা গেছে।

সূত্রমতে, জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর অনেক আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের ধারণা, এবার নৌকায় অনেক বিরোধী দলীয় ভোটও গোপনে এসে পড়বে। বুকে যে প্রতীক লাগাবে ব্যালটে অন্য প্রতীকে সিলও মারবে।

সব মিলিয়ে এ বারের নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম শুধু আওয়ামীলীগ ও আমজনতার ভোটই পাবেন তা নয়, অনেক বিরোধী দলীয় ভোটও পেতে পারেন এমন আশংকা বিদ্যমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *