মামলার রায় : বিএনপির পরিকল্পনা

Slider রাজনীতি

279910_195

 

 

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। রায়কে ঘিরে রাজনীতিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। কৌশল পাল্টে রাজধানীসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ গণজমায়েতের কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। দল ও সংগঠন পরিচালনায় ইতোমধ্যে বিএনপি প্রধান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলায় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন তিনি।
অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আইনি দিক বিশ্লেষণ করে দলটির আইনজীবীরা বলছেন, বেগম জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন। তবে দলটির নেতারা সরকারের ‘মোটিভ’ নিয়ে শঙ্কিত। বিএনপি প্রধানকে সাজা দেয়া হতে পারে, এমনটি ধারণা করছেন তারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মামলা, এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও নেতাকর্মীদের করণীয় বিষয় তুলে ধরতে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া আজ রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাথে বৈঠক করবেন তিনি। ওই বৈঠকে রায় নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থতিতে করণীয় ও সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান গতকাল মঙ্গলবার নয়া দিগন্তকে জানান, রায় নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন বেগম খালেদা জিয়া। সিলেট সফরে তার সে ধরনের মানসিক দৃঢ়তাই ফুটে উঠেছে। সিলেট সার্কিট হাউজে সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনাকালে তিনি বলেছেন, মানুষের ভালোবাসাই তার পুঁজি। সরকারের লাঠিপেটা উপেক্ষা করে এ সফরেও হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। সরকার তাকে জেলে রাখতে চাইলে এ জনগণই প্রতিবাদে ফেটে পড়বে।

রায়কে কেন্দ্র করে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পর কৌশল পাল্টে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। অন্যায় রায় হলে রাজপথে প্রতিবাদ জানানো হবে। কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠনও দিনটিকে ঘিরে সতর্ক রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদেরও ওই দিন রাজপথে নামতে বলা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তাকে যদি রাজনীতি থেকে সরানো যায় তাহলে মতাসীনদের সুবিধা। সে জন্য মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে যদি আটকানো যায়, রাজনীতি থেকে দূরে সরানো যায় তাহলে রাস্তা পরিষ্কার। সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারকে সরাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের পতন নিশ্চিত করতে হবে।

তবে তিনি বলেন, বিএনপি সঙ্ঘাত-সংঘর্ষে বিশ্বাস করে না। বিগত সময়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নাশকতা চালিয়ে আমাদের ওপরই সরকার দায় চাপিয়েছে। চেয়ারপারসনের মিথ্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পারে। তবে তা শান্তিপূর্ণভাবেই করা হবে। কিন্তু মতাসীনেরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।

জানা গেছে, রায় ঘিরে তৃতীয় প যাতে কোনো স্যাবোটাজ করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক আছে দলটি। তবে বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক জানান, নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে রাজপথে নামতে দেবে বলে মনে হয় না। মতাসীনেরাও রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারই সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির সূচনা করতে পারে।

রায়ের দিন বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে কি না জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের রীতির বাইরে কোনো পথ গ্রহণ করে না। কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব বিএনপির। সুতরাং গণতান্ত্রিক রীতির মধ্যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে, গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে যতটুকু প্রতিবাদ করার ততটুকুই করা হবে।

তিনি বলেন, নিপীড়ন-নির্যাতন যাই করুক, যত অত্যাচারই করুক, এখন সারা বাংলাদেশে একটাই আওয়াজ ‘আমার নেত্রী, আমার মা বন্দী হতে দেবো না’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *