গাজীপুর: দুই যুগ ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দালালী করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। মেছ থেকে বা ভাড়া বাসা থেকে এখন এরা বহতল ভবনের মালিক। দৃশ্যমান আয় বা পৈত্রিক সম্পদ না থাকলেও আঙ্গুল ফুলে বটগাছ হওয়া এই সিন্ডিকেট এখন নিয়ন্ত্রন করছে স্পর্শকাতর সেক্টর। যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের প্রভাবশালী নেতাদের চামচামি করে এরা গাজীপুরকে অনেকটাই জিম্মি করে রেখেছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা চামচামী আর তোষামোদী পছন্দ করার কারণে এদের হাতে জিম্মি সাধারণ মানুষ। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই নিমিষেই প্রতিবাদকারী হয়ে যায় অপরাধীী আর শুরু হয় মামলা মোকদ্দমা ও হয়রানী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সিটিকরপোরেশন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও শিল্প সেক্টর সহ সকল জায়গায় একই সিন্ডিকেট। এদের আশ্রয় ওও প্রশ্রয় দাতারা সকলেই রাজনৈতিক নেতা। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে মুহুর্তের মধ্যেই এরা ওই দলের আস্থাভাজন হয়ে যায়। চামচামী তোষামোদী ও অন্যায়কে সমর্থন করার কারণে নেতারাও তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে থাকার কারণে এদের বিরুদ্ধে কেউ কথাও বলতে পারে না। প্রশাসনও এদেরকে ভয়ে কিছু বলে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা, সকল ভূমি অফিস, জেলা পরিষদ, সিটিকরপোরেশন সহ সকল ক্ষেত্রে এদের প্রভাব। এসব জায়গার দূর্নীতি নিয়ে কোন সাংবাদিক সংবাদ করতে গেলেও হয়রানীর শিকার হয়। কোন সরকারী কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে গেলে ওই সিন্ডিকেটের আক্রমনের শিকার হতে হয়। অপরাধের সিন্ডিকেট হওয়ায় দূর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তারাও সিন্ডিকেট দিয়ে সাংবাদিকদের বিপদে ফেলে দেয়। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যদি কোন সাংবাদিক অনুসন্ধান করে কোন ভালো সংবাদকে আলোর মুখে নিয়ে আসে, ঠিক তখনই ওই সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেগে পড়ে। ফলে আর অন্য সাংবাদিকেরা বিপদে পড়ার ভয়ে দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে দেদারছে ও নিরাপদে ওই সিন্ডিকেট তাদের দালালী করতেই থাকে। গাজীপুরের এই পরিস্থিতি প্রায় দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা কেউ কেউ গাজীপুর জেলার আবার কেউ কেউ ভিন্ন জেলা থেকে আগত। তবে সকলেই ভাড়া বাসা বা মেছ থেকে এখন বহুতল ভবনের মালিক। বহুতল ভবন ছাড়াও আছে ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাগান বাড়িও আছে। দৃশ্যমান কোন আয় বা পৈত্রিক সম্পদ না খাকায় এদের বিপুল পরিমান সম্পদ নিয়ে জনমনে সন্দেহ থাকলেও কেউ প্রকাশ করে না তাদের ভয়ে। ফলে নির্ভয়ে এরা এখন ছাদ বাগানের লাইভ করে দেখায় মানুষকে।
অনেকে বলছেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী থেকেও ভয়ঙ্কর এই সিন্ডিকেট। এদের আক্রমনে অসংখ্য প্রতিবাদকারী হয়রানীর শিকার হয়ে এখন নিস্তজে হয়ে গেছে। এদের রুখতে না পারলে সামনের সময়ে আরো বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সুতরাং দলমত নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট সকলে উচিত অপরাধী এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এখনি রাস্তায় নামা। না হলে এমন সময় আসবে যখন আর একজন প্রতিবাদকারীও পাওয়া যাবে না। এতে এই সিন্ডিকেট গাজীপুরকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানাতে সক্ষম হবে।

