গাজীপুর: ময়লার স্তুপে ভরে থাকা বস্তি ঘরে বিলাসবহুল অনেক কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। রাজা-বাদশাদের সরাইখানার মত তৈরী করা বিলাসী কক্ষগুলোতে বসে সব ধরণের মাদক সেবন করেন ভিআইপি মাদকসেবীরা। এই এয়ারকন্ডিশনে বসে ভিআইপি মাদক সেবনকারীরা মাদক সেবন করেন আর তাদের পালানোর জন্যও তৈরী করা হয়েছে অসংখ্য সুরঙ্গপথ। সম্প্রতি মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ দিনে ৮৫৯ জন গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আবিস্কার হয়েছে এই সকল বিলাসী মাদকসেবীদের আড্ডাখানা। জানা গেছে, ১৯ বস্তিতে ৫ হাজারেরও বেশী মাদক কারবারি রয়েছে। আর মাদক সেবন, মাদক কারবার, মাদকের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা সব মিলিয়ে মাদক ব্যবসার নিরাপদ রুট তৈরীতে বস্তিগুলোর প্রায় ২০ ভাগ মানুষ মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই মাদকের আশ্রয়দাতাদের মধ্যে টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডে ৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন যারা সরাসরি মাদকের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দাতা।
আজ রবিবার(১০ মে) জিএমপি সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
পুলিশ জানায়, ৪ মার্চ থেকে ৬জুন পর্যন্ত ৫৯ দিনে মাদক ও ছিনতাই বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৫৫৯ গ্রাম হেরোইন, ২১৫৫ পিস ইয়াবা ও প্রায় ৬ কেজি গাঁজা, ২১০পিস প্যাথেডিন, ৪৫ বোতল ফেনসিডিলি ও ১০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদক কারবারি ৮৯ জন, মাদক সেবী ৬৪৯ জন, ছিনতাইকারী ১১৩ জন, চোর ১৪জন ও একজন চোরাকারবরী রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের হাট টঙ্গী। ১৯টি বস্তির প্রায় ৫ শতাধিক আন্ত:জেলা মাদককারবারির এই দেশীয় সিন্ডিকেট অবাধে মাদকের কারবার করছে প্রায় দুই যুগেররও বেশী সময় ধরে। বস্তিগুলো হল, টঙ্গী বাজার এলাকার গোহাটা বস্তি, হাজী মাজার বস্তি, এরশাদনগর বাস্তুহারা বস্তি, নতুন বাজার এলাকার ব্যাংকের মাঠ বস্তি, আমতলি এলাকার কেরানীরটেক বস্তি, রেলওয়ে বস্তি, মাছিমপুর এলাকার জিন্নাতের পেছনের বস্তি, নিশাতনগর এলাকার নিশাত মহল্লা বস্তি, চুড়ি ফ্যাক্টরি বস্তি, নামা বাজার বস্তি, কলাবাগান বস্তি, বেক্সিমকো সংলগ্ন বেঙ্গলের মাঠ বস্তি, টঙ্গী মেডিকেলের পেছনের বস্তি, পরানমন্ডলের টেক কাঠালদিয়া বস্তি, নেকারবাড়ী বস্তি, বেলতলা বস্তি, সান্ডারপাড়া বস্তি, খৈরতুলের ব্যাংকপাড়া বস্তি, কড়ইতলা বস্তি অন্যতম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯ বস্তিতে ৫ হাজারেরও বেশী মাদক কারবারি রয়েছে। আর মাদক সেবন, মাদক কারবার, মাদকের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা সব মিলিয়ে মাদক ব্যবসার নিরাপদ রুট তৈরীতে বস্তিগুলোর প্রায় ২০ ভাগ মানুষ মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই মাদকের আশ্রয়দাতাদের মধ্যে টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডে ৯জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন যারা সরাসরি মাদকের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দাতা। ৫ আগস্টের আগে ও পরে দুটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে এই প্রার্থীদের দেখা গেছে বহুবার। সম্প্রতি গাজীপুরের বড় বড় নেতাদের সাথে তাদের অসংখ্য ছবি ভাসছে নেট দুনিয়ায়। পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে মাদক সংশ্লিষ্টতার। ইতোমধ্যে, এই প্রার্থীরা পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছে টঙ্গীর শহর। বস্তিগুলো ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে ও থানা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সামনে তারা পোস্টার লাগিয়েছেন। স্যোসাল মিডিয়ায়ও তারা নিয়মিত প্রচারণা করছেন।
টঙ্গীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম এন্ড অপস) মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের স্বমূলে উচ্ছেদ করতে দিনরাত কাজ করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ধারাবাহিক অভিযোনে অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক মাদক বিক্রয় কেন্দ্র সিলগালাও করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

