সবার সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে টানলে কষ্ট পাই: আপিল বিভাগ

Slider বাংলার আদালত

59222_sc

ঢাকা;  দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে যখন টানেন, তখন কষ্ট পাই।’
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করায় আজ মঙ্গলবার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন আপিল বিভাগ।

অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির যখন দোহাই দেন, তখন কষ্ট লাগে।’

রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বিষয়টির শুনানি আগামী ৮ মে পর্যন্ত মুলতবি করেছেন। এই হিসেবে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষ ৮ মে পর্যন্ত সময় পেল।

আজ সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন জানান। এ সময় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যেটা বললেন, সেটা ঠিক থাকবে তো? ৮ মে পর্যন্ত সময় দিলাম। এরপর আর কোনো অজুহাত থাকবে না বলে আশা করি। যা-ই হোক, আপনার হাসিটা যাতে মিলিয়ে না যায়। কষ্ট লাগে, যখন আপনি মাথা নিচু করে থাকেন।’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেন আপিল বিভাগ। এ খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে তা দাখিল করতে গত বছরের ২৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক দফা সময় নেয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশে গত ১২ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব আদালতে হাজির হন। এর ঠিক এক দিন আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত খসড়া গেজেট প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

ওই দিন আপিল বিভাগ বলেন, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন, এখানে কোনো আপস নেই।

১২ ডিসেম্বর আদালত গেজেট প্রকাশের জন্য ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক দফা সময়ের আবেদন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *