সার্ক সম্মেলন স্থগিত, নিঃসঙ্গ পাকিস্তান!

Slider সারাবিশ্ব

 33412_saarc

 

ঢাকা; নয়া দিল্লির ঝটিকা কূটনীতিতে কার্যত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। নভেম্বরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্কের বার্ষিক সম্মেলন বর্জন করেছে ভারত। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কা জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এ সম্মেলন হতে পারে না। এর মধ্য দিয়ে কার্যত এ অঞ্চলে একা হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলনে যোগ দেবেন না। এর ফলে ১৯তম সার্ক সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু পোস্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্টের খবরের শিরোনাম ‘সার্ক সামিট পৌসপৌনড’। এতে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সম্মেলনে অংশ না নেয়ার কথা মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছে ভারত। তারপরই নভেম্বরের এ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে সার্কের চেয়ার নেপালকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদি সার্কের কোনো একটি সদস্য এ সম্মেলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মেলন স্থগিত বা বাতিল হয়ে যায়। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সার্কের বর্তমান চেয়ার নেপালকে বাংলাদেশ একটি বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘একটি দেশ’-এর ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ইসলামাবাদে সার্কের ১৯তম সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।
ভুটান বলেছে, তারা সার্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সম্প্রতি এ অঞ্চলে সন্ত্রাসের যে বিস্তার তাতে তারা উদ্বিগ্ন। নভেম্বরে ইসলামাবাদে ১৯তম সার্ক সম্মেলন সফলভাবে সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে গুরুতর ‘কমপ্রোমাইজ’ করতে হবে।
থিম্পু থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের কারণে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সার্কের কিছু সদস্য দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজকীয় ভুটান সরকার তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। তাদেরকে জানাচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সার্ক সম্মেলনে অংশ নিতে পারছি না।
সূত্র বলেছেন, সার্কের চেয়ার নেপালকে একই রকম বার্তা জানিয়েছে আফগানিস্তান। তাদের বার্তায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেয়া সন্ত্রাসের ফলে যে সহিংসতা ও লড়াই বৃদ্ধি পেয়েছে তা নিয়ে দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনি পুরোপুরি ব্যস্ত থাকবেন। তাই তিনি সম্মেলনে যোগ দিতে পারবেন না।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এ সম্মেলন হতে পারে না।
ভারত মঙ্গলবারই ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা জম্মু-কাশ্মিরের উরিতে সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ইসলামাবাদ সম্মেলন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ওই হামলায় ভারতের কমপক্ষে ১৮ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিতকে তলব করেন। তার কাছে জানিয়ে দেন যে, উরি হামলায় নিহত এক সন্ত্রাসী ও অন্য দু’জন নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তারা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদের। এ কথা জানিয়ে দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ইসলামাবাদ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়ে দেয় ভারত। ওদিকে আবদুল বাসিত ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে বলেন যে, পাকিস্তান বিশ্বাস করে উরি হামলা ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের দ্বারা সংঘটিত একটি হামলা। এর মাধ্যমে কাশ্মিরের মনোযোগ অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন। ওদিকে সার্ক সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *