কোকেন মামলায় নুর মোহাম্মদের জামিন স্থগিত

Slider বাংলার আদালত

 

2016_06_20_15_43_54_KGN2ubgTfR7vrqsFv65L4jAa1CZbgc_original

 

 

 

 

ঢাকা : চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭০ লিটার তরল কোকেন আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় খানজাহান আলী গ্রুপের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি।

সোমবার (২০ জুন) চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন।

এ আদেশের ফলে কারামুক্ত হচ্ছেন না নুর মোহাম্মদ। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, ৩৭০ লিটার তরল কোকেন আটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আসামিকে জামিন দেয়া হলে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য আমরা আপিল বিভাগে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে সে আবেদনের শুনানি করে আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

নগর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে গত বছরের ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার সিলগালা করেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।  ৮ জুন সেটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত বছরের ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১ (খ) ধারায় খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে চোরাচালানের ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেটি তদন্তাধীন আছে।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর কোকেন আমদানির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত দুজনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। তবে এজাহারে নাম থাকলেও কোকেনের চালানটি যে প্রতিষ্ঠানের নামে বন্দরে আনা হয়েছিল ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদকে অভিযোপত্রে অব্যাহতি দেয়া হয়।

৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হয়। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির নাম না থাকায় অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেননি আদালত। ওইদিন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম রহমত আলী চাঞ্চল্যকর কোকেন আমদানি মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কমকর্তাকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবকে দায়িত্ব দেন। ৯ ডিসেম্বর আদালতের আদেশের কপি র‌্যাবের কাছে পৌঁছায়।

অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয় তারা হলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বকুল মিয়া ও ফজলু মিয়া, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে আজাদ, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম, সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম গত বছরের ১৮ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।

র‌্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ জানুয়ারি  অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *