যুক্তরাষ্ট্রে সমকামী ক্লাবে হামলার দায় স্বীকার আইএসের

Slider সারাবিশ্ব

 

18279_orlando

 

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সমকামীদের এক নাইটক্লাবে হত্যাযজ্ঞের দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ খবর দিয়েছে জঙ্গি গ্রুপগুলোর ওপর নজরদারি করা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। এতে বলা হয়েছে, এ হামলাকে উদযাপন করেছে আইএস। আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ লিখেছে, অরল্যান্ডোতে সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে ওমর মতিন গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে ১১ই জুন। সামাজিক মিডিয়ায় এ হত্যাযজ্ঞের  প্রশংসা করেছে আইএস।

ওদিকে বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়  সময় শনিবার মধ্যরাতের ওই হামলায় নিহত হয়েছে ৫০ জন। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটাই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একে সন্ত্রাস এবং বিদ্বেষের কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, লস অ্যানজেলেসেও সমকামীদের সমাবেশে হামলার এক পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সমকামীদের নাইটক্লাবে হামলার সময় হামলাকারী বন্দুকধারী পুলিশকে ফোন করে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী বা আইএস-এর প্রতি আনুগত্যের কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাক সংবাদ সংস্থা বলছে, হামলাটি চালিয়েছে একজন ‘আইএস যোদ্ধা’।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ২৯ বছর বয়সী বন্দুকধারী তরুণের নাম ওমর মতিন। তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার বাবা-মা আফগান। শনিবার মধ্যরাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরের ‘পালস’ নামের নাইটক্লাবটিতে ঢুকে গুলি চালায় সে। তাতে ৫০ জন নিহত হন। আহতের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলা শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেখানে ঢুকে ওমর মতিনকে হত্যা করে পুলিশ। একে সন্ত্রাস ও বিদ্বেষের কাজ আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, বন্দুকধারীর কাছে একটি হ্যান্ডগান এবং একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল। এতেই প্রমাণ হয় কত সহজেই বন্দুকের ব্যবহার করে এখানে স্কুল বা আবাসিক এলাকা বা নাইটক্লাবে হামলা করা যায়। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় মুসলিম মৌলবাদীদের দায়ী না করায়  প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগও দাবি করেছেন ট্রাম্প। এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রন হপার জানিয়েছেন, এই হামলাকারী ওমর মতিন সম্পর্কে ২০১৩ এবং ১৪ সালেও তদন্ত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বন্দুকধারীর হামলায় এত বেশি হতাহতের ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *