যাকে যেখানে খুশি সিট দেব, আপনি বলার কে?

Slider বাংলার মুখোমুখি


‘এই হল আমার, আমার কথাতেই হল চলবে। যাকে যেখানে খুশি সিট বরাদ্দ দেব। আপনাকে এই হলের দায়িত্ব কে দিয়েছে?’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট সাহেদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ফাইজা মেহজাবিনের বিরুদ্ধে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় কুবির শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গতকাল রবিবার।

অভিযুক্ত ফাইজা মেহজাবিন ওই হলের ২১৮ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। ফাইজার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হলেও তার পরিবার বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকায় থাকে। গত বছরের ২৭ জুলাই যাতায়াত সমস্যা, আর্থিক সমস্যা ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে হলে থাকার জন্য আবেদন করেন তিনি। এরপর হলে উঠে বেপরোয়া হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুবির শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সাহেদুর রহমান হলের ২১৬ নম্বর কক্ষে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রেয়সী সানাকে আসন বরাদ্দ দেন। ওই ছাত্রী গত শনিবার বিকালে ওই কক্ষে উঠতে গিয়ে দেখেন, সেখানে রায়হানা আনজুম নামে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী থাকছেন। বিষয়টি প্রেয়সী হল প্রাধ্যক্ষকে জানালে তিনি দুজনকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। এরপর সেখানে হাজির হন ফাইজা মেহজাবিন। প্রাধ্যক্ষ পদার্থবিজ্ঞানের ওই শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কীভাবে হলে উঠলেন?’ তখন ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে হল ছাত্রলীগের সভাপতি তুলেছেন।’

এ ঘটনার এক পর্যায়ে সেখানে হাজির হওয়া ছাত্রলীগ নেত্রী ফাইজা মেহজাবিন বলেন, ‘আমি তাকে তুলেছি। এতে সমস্যা কী?’

তবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী কাজী ফাইজা মেহজাবিন। তিনি বলেন, ‘সিনিয়র দেখে পদার্থবিজ্ঞানের ওই ছাত্রীকে আমি হলে তুলেছি। তবে আমি কোনো ধরনের অশালীন কথা বলিনি এবং কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। প্রভোস্ট (প্রাধ্যক্ষ) স্যারকে বলেছি, মেয়েটির সিট দরকার। এ জন্য হলে আছে।’

কুবির শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সাহেদুর রহমান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, হলে কোন শিক্ষার্থী উঠবেন আর কোন শিক্ষার্থী উঠবেন না সেই এখতিয়ার সম্পূর্ণ হল প্রশাসনের। একজন শিক্ষার্থী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। অথচ ফাইজা নামের শিক্ষার্থী আমাকে বলেছেন, ‘যাকে যেখানে খুশি সিট দেব, আপনি কে?’

তিনি বলেন, অথচ ফাইজা নিজেই এখনো হলের ফি জমা দেননি। গত বছরের ৩১ জুলাই শেখ হাসিনা হলের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে হলে ৩৭৯ জন ছাত্রী থাকেন। হলের ভর্তি ফি ১ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন হলে অনেক সমস্যা থাকবে। ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা হল ছাড়াও অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে কাজী ফাইজা মেহজাবিনের বিরুদ্ধে। বাসে থাপ্পড় মারার ঘটনাও রয়েছে এর মধ্যে। গত বছরের ৯ নভেম্বর বাসে সিট রাখাকে কেন্দ্র করে এক ছেলে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই শিক্ষার্থীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ছাড় পান সেই ঘটনায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *