প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে উঠতে এমপি বাদশার তদবির

Slider রাজনীতি


রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আমন্ত্রণ না জানানোয় আওয়ামী লীগের ওপর চটেছে ১৪-দলীয় জোটের শরিকরা। আবার আমন্ত্রণের অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চায় না তারা। জনসভায় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মঞ্চে জায়গা পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা। রাজশাহী ও ঢাকার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন। তবে এখনো সবুজ সংকেত পাননি।

আগামী ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জনসভা ঘিরে আওয়ামী লীগের ঘরোয়া রাজনীতি বেশ সরগম। পাড়া-মহল্লা থেকে মহানগর পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই উজ্জীবিত। প্রতিদিনই চলছে প্রস্তুতি মিছিল ও সমাবেশ এবং লিফটে বিতরণ। তবে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। অপেক্ষা করে করেও আমন্ত্রণ না পাওয়ায় হতাশ তারা।

সবচেয়ে বেশি মুষড়ে পড়েছেন সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। এমপি হিসেবে আগেভাগেই তিনি আওয়ামী লীগের ডাক পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে বাদশাকে এবার পাত্তাই দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন নেতারা। হতাশা প্রকাশ করে ফজলে হোসেন বাদশা আমাদের সময়কে বলেন, ‘আশা করেছিলাম জনসভার আগে ১৪ দলের মিটিং হবে। তা হলে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্য দলগুলো জমায়েতের উদ্যোগ নিতে পারত। সেটা হয়নি। এটা বিচ্ছিন্নতা।’

রাজশাহী সদর আসনের এমপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে উপস্থিত থাকার প্রশ্নে বাদশা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি। কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে তারা কিছু বলেননি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নিজের কেন্দ্রে ফেল করেছিলেন বাদশা। তিনি তিনবারই নৌকার টিকিটে এমপি হয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগের ভোটে পাস করেও তিনি আওয়ামী লীগেরই শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেননি। যখন যেখানে সুযোগ পেয়েছেন ক্ষমতাসীন নেতাদের তুলাধোনা করেন। তখন তিনি জোটের কথা ভুলে যান। এখন প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আসার জন্য তদবির করে বেড়াচ্ছেন। মঞ্চে ওঠার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন!

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় শোডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি। দলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস প্রামাণিক দেবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানে নেতাকর্মীরা দলবেঁধে যাবেন। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সভাসহ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ পাত্তা না দেওয়ায় খেপেছে ১৪ দলের আরেক শরিক জাসদও (ইনু)। দলটির রাজশাহী মহানগর শাখার সিনিয়র কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। কিন্তু গ্রিন সিগন্যাল মেলেনি। এতে ‘মন খারাপ’ জাসদ নেতাদের।

মহানগর জাসদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেন, ‘গেল ১৪ বছর ধরেই আওয়ামী লীগের সুখেদুখে আমরা আছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কালে আওয়ামী লীগের নেতারা আর কথা বলছেন না। আমাদের এড়িয়ে চলছেন। তবে তারা না ডাকলেও আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে।’

আর আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘ওনারা আসবেন। সবাই আসবেন। সমস্যা নেই। তবে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *