নিজের সব সম্পদ ফাউন্ডেশনে দানের ঘোষণা তোফায়েলের

Slider বিচিত্র


ভোলা: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার সব সম্পত্তি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। তোফায়েল আহমেদের ঢাকা ও ভোলার দুটি বাড়িসহ সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ওই ফাউন্ডেশনের নামে হস্তান্তর করা হবে। গতকাল সকালে ভোলা সদর উপজেলা কার্যালয় চত্বরে দুর্ঘটনায় হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন যুবক মো. মিজানুর রহমানের কর্মসংস্থানের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা দামের একটি ইজিবাইক প্রদান করার সময় তোফায়েল আহমেদ এ ঘোষণা দেন।

ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আর্তমানবতার সেবায় তার নামে তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই অসহায় দরিদ্র্য মানুষের সেবায় পরিচালিত হবে হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, শিক্ষাবৃত্তিসহ মানবতার সেবামূলক বিভিন্ন কাজ। তিনি আরও বলেন, শুধু ভোলাতেই নয়, তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারা দেশের অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করা হবে। তোফায়েল আহমেদ নিজেই এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে তার মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। তার মা ও বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আজাহার ফাতেমা মেডিকেল কলেজ। ওই কলেজের দায়িত্বে রয়েছেন তার মেয়ে ডা. তাসলিমা মুন্নী। ওই হাসপাতালও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। যেখানে বিনা টাকায় গরিব মানুষ চিকিৎসা পাবেন।

এ সময় আবেগতাড়িত হয়ে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু তাকে অত্যন্ত ¯েœহ করতেন। তার (বঙ্গবন্ধুর) রাজনৈতিক সচিব করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ¯েœহ ভালোবাসা লাভই তার জীবনের বড় সম্পদ। দেশে করোনা মোকাবিলায় টিকা সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মইনুল হোসেন বিপ্লব, প্রেস ক্লাব সভাপতি এম. হাবিবুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান প্রমুখ। মিজানুর রহমান ছোট বেলায় ধানমাড়াইর কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় তার হাতের কব্জি হারিয়েছিলেন। গত মাসে শহরের যুগিরঘোলে তার ইজিবাইক রেখে নামাজ পড়তে যান। এসে দেখেন ইজিবাইকটি চুরি হয়ে গেছে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মিজান। ফেসবুকে এমন একটি বেদনাদায়ক ঘটনা তোফায়েল আহমেদের চোখে পড়ে। ওই অসহায় যুবককে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে তোফায়েল ফাউন্ডেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *