কিশোরগঞ্জে প্রার্থী না হতে বিএনপি নেতাকে পিস্তল ঠেকিয়ে মুচলেকা আদায়

Slider রাজনীতি


কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে আসছেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি কামরুল হাসান বাদল। তিনি একইসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও হোসেনপুর উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। চেয়ারম্যান পদে আগাম নির্বাচনী তৎপরতা চালানো এই নেতাকে ঘিরে উজ্জীবিত তার সমর্থক এবং দলীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো এমনকি জীবন সংশয়ের উপক্রম হয়েছে তার। গ্রামের বাড়ি ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রাম থেকে জেলা শহরে যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাকে আটকে চোখ-মুখ বেঁধে জিম্মি করে। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে কপালে ও কোমরে তিনটি পিস্তল ঠেকিয়ে নির্বাচন না করার জন্য তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার এই মুচলেকা দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে জিম্মিদশার শিকার হন কামরুল হাসান বাদল।
এ ব্যাপারে ১৯শে ফেব্রুয়ারি হোসেনপুর থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ৫ দিনেও সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। তবে হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকালে মানববন্ধন এবং বিএনপি নেতা কামরুল হাসান বাদল সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ইউনিয়নের আশুতিয়া বাজারে ৫ নং শাহেদল ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে রাতের আঁধারে অস্ত্র ঠেকিয়ে কামরুল হাসান বাদলকে জিম্মি করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিকাল ৪টায় মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন কামরুল হাসান বাদল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রামপুর থেকে চরপুমদী বাজারের মাঝামাঝি রাস্তায় ৬-৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাদলের চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তারা তাকে কোলে করে নদীর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তার কপালে একটি ও কোমরের দুইদিকে দুটি পিস্তল ঠেকিয়ে তারা চেয়ারম্যান পদে বাদলকে নির্বাচন না করার কথা বলে। নির্বাচন করলে তাকে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয় অস্ত্রধারীরা। এ সময় তারা বাদলকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এরপর তারা তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য চাপ দেয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনটি স্ট্যাম্পেই স্বাক্ষর করেন কামরুল হাসান বাদল। স্বাক্ষর দেয়ার সময় তার চোখ-মুখ খুলে দিলেও পরে আবার বেঁধে ফেলে তারা। এরপরও যদি বাদল নির্বাচন করেন তাহলে তার টাকা-পয়সা বা সম্পত্তি তারা ছিনিয়ে নেবে এবং খুন করা হবে বলেও হুমকি দেয়। অস্ত্রধারীরা চলে যাওয়ার পর নদীর পাড় থেকে কোনো রকমে রাস্তায় এসে মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জ যান। এ ঘটনার পর থেকে কামরুল হাসান বাদল চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে শাহেদল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসেম সবুজ, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর রহমান কবীর, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু নাঈম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাননি। তবে তিনি তথ্য নিয়ে জেনেছেন, ওই রাতে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *