আরেকটা মানুষই বা কই তাঁর মত!

Slider সামাজিক যোগাযোগ সঙ্গী


নবনীতা চৌধুরী: মিজান ভাই গত ক’দিন ধরে অবিরাম আপনার সুস্থতাই কেবল চেয়েছি। আপনি অনাত্মীয়, ঠিক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও তো নন, তবু আপনি ভেন্টিলেটরে শোনার পর থেকে অবিরাম চোখের পানি ফেলেছি। সেটা কী আপনার শিশুতোষ উচ্ছ্বাস, ঠা ঠা হাসি, পরম সঙ্গীতপ্রিয়তা নাকি সংবাদ কি সংবিধান নিয়ে আলাপে-তর্কে পরম উৎসাহে দীর্ঘ ফোনালাপের স্মৃতি মনে করে, তা জানিনা। তবে, আমি মনে মনে আপনার সেরে ওঠার পরের ফোনালাপ কিংবা মেসেঞ্জারে আমাদের বার্তা চালাচালিটুকু কয়েকবার ঝালাই করে রেখেছিলাম গত দেড় দুই দিনে। মাথা যখন বলছিল আপনি ফিরবেননা মন তখনও বলছিল আপনার তীক্ষ্ণ কন্ঠ আর সেই দুনিয়া উজাড় করা হাসি নিয়ে শিশুর সারল্যে আপনি ফিরবেনই ফিরবেন। আপনি ফিরলেননা মিজান ভাই – আমার অনাত্মীয়, অবান্ধব, দূরের ভাই।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত আপনি উন্মোচন করেছিলেন। সেই দিগন্তে গত দেড় দুই দশকেও আর কেউ ঢুকতে পারেনি।
অগুনতি

ভক্ত, পাঠক হয়েছে আপনার আইন, সংবিধান, আদালতের মত কঠিন খটমটে বিষয় নিয়ে লিখে। উপসম্পাদকীয় পাতায় কলাম লিখে কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত আলোচনায় থেকে খবর পাল্টা খবর সৃষ্টি করা যায়, এসব যাদুকরী সব ঘটনা আপনি ঘটিয়ে গেছেন বিরামহীন। পত্রিকার পাঠক নাই, সাংবাদিকতার জায়গা নাই, রাজনীতি নাই, তাই খবর নাই – এমন সব ক্লিশের বিপরীতে একাই দাঁড়িয়ে পড়ার শক্তি, সাহস, সততা রাখা মানুষ ছিলেন আমাদের মিজান ভাই। অথচ, নিজের প্রখর মেধা, তারকা খ্যাতি আর গভীর জ্ঞান বিষয়ে এত নিরহংকার আর কর্মনিষ্ঠ আরেকটা মানুষই বা কই তাঁর মত!

তুখোড় মেধা আর নিষ্কলুষ সারল্যে গড়া অনন্য মানুষ মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে তাই সাংবাদিকতার আর এই দেশটার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। কত মানুষ আপনাকে ভালবাসত, আপনার জন্য কাঁদছে সেটা দেখলে আপনি কেমন অবাক হতেন, তা দেখতে ইচ্ছা করছে। আপনার অবাক হওয়ার ক্ষমতাটাও এত নির্ভেজাল সুন্দর ছিল মিজান ভাই! সবচেয়ে সুন্দরতম স্থানে আপনার ঠাঁই হোক ভাই। পরিবার পরিজন স্ত্রী সন্তান স্বজন আর এত এত কাজ আর শুভাকাঙ্খীদের ফেলে আপনার যাওয়া সার্থক হোক।
লেখাটি সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরীর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *