ইউএনও’র বাসায় চুরি, বাঁধা দেয়ায় হামলা!

Slider জাতীয় টপ নিউজ


ঢাকা: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর কেন বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে তা দুইদিনেও স্পষ্ট হয়নি। গতকাল কয়েক দফায় যাদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আসাদুল ইসলাম স্বীকারোক্তি দিয়ে জানিয়েছে চুরির উদ্দেশে তারা ইউএনও’র ওপর হামলা করে। তবে এ বিষয়ে আরো তদন্ত চলায় হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে র‌্যাব কোনো
সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ওদিকে সন্দেহভাজন হিসাবে আটক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও মাসুদ রানাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসাবে তাদের আটক করা হয়েছিল বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। যদিও আটকের পরই এই দুই নেতাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। ওদিকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে অস্ত্রোপচারের পর ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তার জ্ঞান ফিরে এসেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি আসাদুল ইসলামকে গতকাল ভোর সাড়ে চারটায় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের কালিগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি ৪নং ঘোড়াঘাট ইউপি’র সাগরপুর গ্রামে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুইজন নবীরুল ইসলাম (৩৬) ও সান্টু দাশকে গতকাল ভোর এবং দুপুরে ঘোড়াঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করা হয় জাহাঙ্গীর আলম ও মাসুদ রানাকে। জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং মাসুদ ঘোড়াঘাট সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। ঘোড়াঘাট কাছিগাড়ি গ্রামের প্রাক্তন পুলিশ সদস্য আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং মাসুদ ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে। নবীরুল ইসলাম একজন রং মিস্ত্রি। সান্টু দাশ পেশায় সুইপার। উপজেলাতেই সুইপারের কাজ করে। তাদের উভয়ের বাড়ি ইউএনও’র বাসভবন সংলগ্ন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি ইউএনও’র বাসভবনের নৈশপ্রহরী পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় তার ভাই ফরিদ শেখ ঘোড়াঘাট থানায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি মামলা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘোড়াঘাট ইউএনও’র বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলায় অংশ নেয় দু’জন। এদের মধ্যে একজন ছিল মুখোশ ও অন্যজন পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) পরা। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলেছেন হামলায় আহত ইউএনও’র বাবা ওমর আলী শেখ। দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হয়ে তিনিও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওমর আলী জানিয়েছেন, বাসায় ঢুকে হামলাকারীরা বার বার ওয়াহিদা খানমের কাছে আলমারির চাবি চেয়েছে। চাবি না দিলে তার চার বছরের সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় একজন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন ইউএনও’র বাবা ওমর আলী শেখ।

গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় সরকারি বাসভবনে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হন ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও তার বাবা চিকিৎসাধীন আছেন রংপুরে।

চুরির উদ্দেশে ইউএনও’র ওপর হামলা, আসাদুলের স্বীকারোক্তি: চুরির উদ্দেশে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ঘরে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওয়াহিদা বাধা দেয়ায় তার ওপর নৃশংস হামলা চালায় বলে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার আসাদুল ইসলাম। এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-১৩। গতকাল সন্ধ্যায় র‍্যাব-১৩ রংপুর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টা মামলার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম, সান্টু ও নবীরুল। এ ঘটনায় জড়িত বলে এরইমধ্যে আসাদুল দায় স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, চুরির জন্য তারা ভেন্টিলেটর দিয়ে ইউএনও’র বাসভবনে ঢোকে। তবে ওয়াহিদা জেগে গিয়ে চুরিতে বাধা দেয়ায় তার ওপর হামলা চালায়। তাই আটক সন্দেহভাজন জাহাঙ্গীর আলমকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে র‍্যাব গাড়িতে করে ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ বাজারে ছেড়ে দিয়ে গেছে বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির উদ্দেশেই ঘরে ঢুকেছিল বললেও ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রংপুরের ডিআইজি’র একজন প্রতিনিধি এবং দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *