রাজীবের শতকোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছে

Slider টপ নিউজ ফুলজান বিবির বাংলা


ঢাকা: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের সম্পদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানকালে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্র জানায়, কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে হঠাৎ বদলে যান রাজীব। বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হন তিনি। দেশ ও দেশের বাইরে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হিসাব মেলানো কঠিন। অবশ্য দুদকের অনুসন্ধানে যে পরিমাণ সম্পদের তথ্য মিলেছে তা শতকোটি টাকা মূল্য ছাড়িয়ে যাবে বলেই জানায় সূত্র। দুদক সূত্র আরো জানায়, রাজীবের সব সম্পদ যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে সংস্থাটি।
মোহাম্মদপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই কাউন্সিলর একাধারে ঢাকার একাধিক স্থানে গড়েছেন সব বিলাসবহুল বাড়ি।

অনুসন্ধান সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে বাড়ি করার পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন কোটি টাকা মূল্যের গাড়িও। রাজীবের ব্যবহৃত চারটি গাড়ির তথ্য দুদকের হাতে রয়েছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ঢাকার মোহাম্মদপুর ছাড়াও মিরপুরের কোটি টাকা মূল্যের তিনটি বাড়ি, গুলশানে দুই কোটি টাকার অ্যাপার্টমেন্ট ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেও রয়েছে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে জোর করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভুমি দখলের অভিযোগ রয়েছে রাজীবের বিরুদ্ধে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করেছে দুদক। সে অনুযায়ী রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর ও আশুলিয়ায় রাজীব বেশকিছু জমি দখল করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে বেশ কয়েকটি প্লটের তথ্যও রয়েছে ওই অনুসন্ধান টিমের কাছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, কাউন্সিলর রাজীবের সম্পদ অনুসন্ধানে গিয়ে বিপুল তথ্য মিলছে। যা হিসেব-নিকেষ করেও কূল কিনারা করতে সময় লাগছে। এখনও অনুসন্ধান শেষ হয়নি। তবে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব তথ্য নেয়ার পর যাচাই বাচাই করে রাজীবের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হতে পারে। এদিকে দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, কাউন্সিলর রাজীবের দেশে এত সম্পদের পাশাপাশি দেশের বাইরে কী পরিমাণ রয়েছে তার খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। অবশ্য অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই কাউন্সিলর ঢাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি আমেরিকাতেও সুবিশাল বাড়ি কিনেছেন। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের আগেই বিভিন্ন মহলে প্রভাবশালী এই কাউন্সিলরকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। দৈনিক মানবজমিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে রাজীবের বেশকিছু অপকর্মের তথ্য। ওই প্রতিবেদনেও রাজীবের ৮-১০টির বেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার রয়েছে।

এই গাড়িগুলোর বেশ কয়েকটি নম্বরের রেজিস্ট্রেশন নেই। ভুয়া নম্বর ব্যবহার করে তিনি গাড়িগুলো চালাতেন রাজীব। এ ছাড়াও গুলশান, মোহাম্মদপুরে তার সাত/আটটি ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও পাওয়া যায়। মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই রাজীবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর অভিযোগ ওঠে, কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতাকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন রাজীব। যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব। গত ১৯শে অক্টোবর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন এই কাউন্সিলর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *