কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিধি লঙ্ঘন করে বিএনপি প্রার্থীর শোডাউন

Slider চট্টগ্রাম

কক্সবাজার: কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে এবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে শোডাউন করলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাসিনা আহমদ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বিকেল চারটার দিকে হাসিনা আহমদ চকরিয়া ও পেকুয়ায় ফেরার পথে এ শোডাউন করেন। এ ছাড়া একই দিন তিনি সমাবেশেও যোগ দেন।

এর আগের দিন সোমবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাফর আলমকে পাঁচ শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে হারবাং এলাকায় বরণ করা হয়। পরে তিনি পাঁচটি সংবর্ধনা সমাবেশে বক্তব্য দেন। বিএনপি এ বিষয়টিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিল।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদ সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে বরণ করেন। পরে তিনি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে তিনি রওনা দেন চকরিয়ার উদ্দেশে। এ সময় তাঁর বহরের সঙ্গে অন্তত ২০-২৫টি মাইক্রোবাস, পাঁচ-ছয়টি জিপ ও অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ছিল। তিনি চকরিয়া পৌঁছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমাদানের অনুলিপি দেন।

এরপর হাজারো মানুষ জড়ো হয় মগবাজার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে। সেখানে বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, চকরিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হাসেম, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আকতার বকুল প্রমুখ।

পরে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদ সমাবেশস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি রওনা দেন পেকুয়ার উদ্দেশে। তাঁর গাড়িবহরে যুক্ত হয় নেতা-কর্মীদের আরও দেড় শতাধিক গাড়ি। এতে চকরিয়া থানা থেকে মাতামুহুরী সেতু পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। হাসিনা আহমদ পেকুয়া উপজেলার সিকদারপাড়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী উপজেলায় আসার খবরে কিছু নেতা-কর্মী জড়ো হন। পুলিশ নিয়ে গিয়ে আমরা তাঁদের সরিয়ে দিয়েছি।’

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সমাবেশ ও দেড় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন করার বিষয়ে তিনি বলেন, শোডাউনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে কোনো প্রার্থী অভিযোগ দিলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদকে তাঁর মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। তবে পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরান জাদিদ প্রথম আলোকে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ মনোনয়ন পেয়েছেন শুনে এবং তাঁকে একনজর দেখতে কক্সবাজার ও চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এসেছে। তবে সন্ধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা আহমদ সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *