সম্পাদকীয়: বিএনপি মইনুলের মুক্তি দাবী করে ১/১১’র দায় নিল কি!

Slider সম্পাদকীয় সারাদেশ

ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বিএনপি বা বিশ দলীয় জোটের কেউ নন। ঐক্য ফ্রন্টেরও কেউ নন তিনি। এমনকি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে মইনুল সাহেবের সম্পৃক্ততারও কোন তথ্য নেই। তবে তথ্য আছে, মইনুল সাহেব ১/১১ সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ওই সময় তিনি প্রধান দুই দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তাই আওয়ামীলীগ ও বিএনপি তাকে পছন্দ করার কথা নয়। কিন্তু মইনুল সাহেব গ্রেফতার হওয়ার পর সমর্থক জোট ঐক্য ফ্রন্টও তার মুক্তির দাবী সরাসরি করেন নি অথচ বিএনপি তার মুক্তির দাবী করলেন এটা সাধারণের বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশর রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে. কোন সময় মইনুল সাহেব দেশের পক্ষে শান্তির জন্য কাজ করেননি। ১/১১’র সরকার অসাংবিধানিক ছিল। আর তিনি ওই সরকারের সময় মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন। আর মইনুলের সরকার রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধেও ছিলেন। তাহলে কেন বিএনপি তার মুক্তি দাবী করল?

সব সময় বিএনপি বা বিশ দলীয় জোট অভিযোগ করছে, ১/১১’র সরকার আওয়ামীলীগের আন্দোলনের ফসল। এটা হলে মইনুল সাহেব তো আওয়ামীলীগের বলয়ে থাকবেন। তাহলে তিনি কেন যুক্তফ্রন্টে যোগ না দিয়েও নেতা হয়ে গেলেন। আর যে যুক্ত ফ্রন্টের সঙ্গে সমাবেশ করেছেন মইনুল, ওই যুক্ত ফ্রন্টও মইনুলের মুক্তি চায় নি। তাহলে কি বিএনপি মইনুলের মুক্তি চেয়ে ১/১১ সরকারের দায় নিল? না অন্য কিছু? এটা নিয়ে ধুম্রজাল থেকেই গেলো। একই সঙ্গে বিএনপি তাদের অভিযুক্ত কোন ব্যাক্তির স্বপক্ষে কথা বলল। পাশাপাশি যে অশালিন কথার জন্য মইনুল সাহেব গ্রেফতার হলেন, বিএনপি ওই অশ্লীলতাকে সমর্থনও করল।

সাধারণ মানুষ আশা করে, রাজনীতিবিদরা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকবেন। কিন্তু যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হন, আবার সেই অন্যায়কে সমর্থনও করেন। এটা কাম্য নয়। তাই রাজনীতিবিদদের উচিত অতীত ও বর্তমান ভেবে ভবিষৎ কথা বলা। না হয় জনগন তাদের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

ড. এ কে এম রিপন আনসারী
এডিটর ইনচীফ
গ্রামবাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *